
আমরা আসলেই যেটুকু...
"শীতকাল কবে আসবে সুপর্ণা"... এসব ভাবতে ভাবতেই শীত কখন এসে যায় এই মফস্বলে, ঠিক বোঝা যায় না। শেষ বিকেলের রোদ্দুর ধরে চলে আসে পরিযায়ী পাখিরা। বাটানগরের নদীর ধারের ইটভাটাগুলো থেকে ধোঁয়া উড়তে থাকে আধপোড়া সিগারেটের মতো। ঘুমেরা গাঢ় হয়ে আসে লেপের নরমে। রাস্তা ভাঙে রঙিন উলের সারি। দুটো সাইকেল চক্কর কাটে এপাড়া সেপাড়া, পাশাপাশি। সবুজ ঘাসের উপর ড্রপ খেয়ে ইনসুইং খায় হেডলি; ব্যাটের এজে লেগে স্লিপের দিকে চলে যায় সে। কয়েকটা ছেলে চিৎকার করে ওঠে, জড়িয়ে ধরে একে-অপরকে।
বন্ধুত্ব... শীতকাল বন্ধুদের ফিরিয়ে আনে এই মধ্যবিত্ত মফস্বলে। আমাদেরও মনখারাপ হয় বয়েস বেড়ে যাওয়া নিয়ে। চুপচাপ বসে থাকি অনেকক্ষণ। এ ওর দিকে চেয়ে থাকি। তারপর ঠিক করি আবার সমস্ত বন্ধুদের একসাথে জড়ো করার ফন্দি। গান, কবিতা, আড্ডা আর অনেক ছোট পত্রিকাদের নিয়ে সন্ধে ভাঙার যোগাড়। পাগলামিরা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। আর সেই সব পাগলামিদের মাথায় করেই হাঁটতে থাকে 'রাত্রি সব জানে', 'ডাকবাক্স' আর 'অপদার্থের আদ্যক্ষর', পাশাপাশি... দু'টো সাইকেল হুস করে বেরিয়ে যায় ধুলো উড়িয়ে। তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে আসা বিকেল রঙিন হয়ে ওঠে হঠাৎ, তার মাথার উপর হালকা লাল রোদ্দুর ভালোবাসার দাগ রেখে যায়, দাগ রেখে যায় আনন্দের...
সেই দাগ ধরেই ভাবনা শুরু 'বাটানগর-বজ বজ লিটিল ম্যাগাজিন কার্নিভাল'-এর। আপনাদের সঙ্গে দেখা হওয়ার অপেক্ষায় এই শীতের মফস্বলে। অপেক্ষা ভাগাভাগি করে নেওয়ার, গল্প, কবিতা, গান আর দু-এক ফর্মাদের। আমাদের আশা আপনার বন্ধুত্বটুকু ছুঁয়ে যাবে এই মফস্বলের গন্ধ। গাঢ় হয়ে উঠবে সন্ধের মতো। ভাষা পাবে আড্ডারা...
.png)