
ছোট পত্রিকা। বড় স্বপ্ন।
যোগাযোগ
9830181875, 7003020519, 8777585134
ঠিকানা মানেই শুধু ফোন নাম্বার আর ইমেল অ্যাড্রেস নাকি?
ঠিকানা বলতে আসলে সেই ডাক-পন্ডের ধারের রাস্তাটা, গঙ্গার দিকে যেতে গিয়ে সোজা-লম্বা রাস্তার দু’পাশের কৃষ্ণচূড়া-রাধাচূড়া গাছগুলো, পরপর জায়গা ভাড়া করে ছিপ হাতে নিয়ে অগাধ ধৈর্য্য আর মনোসংযোগে বসে থাকা সন্ন্যাসীর মতন মানুষগুলো, চেনা সাইকেলের বেল শুনে স্কুল ফেরৎ মেয়ের হাঁটা থামিয়ে কুড়িয়ে নেওয়া বানান ভুলের কাগজ টুকরো, তিনটে ফুটবল গ্রাউন্ড সমেত বাটা স্টেডিয়াম কিংবা মাঠ জুড়ে বসে থাকা বন্ধুরা– 'বাটানগর' বলতেই যে চেনা ছবিগুলো ভেসে ওঠে। সেসব কিছুই যদিও নেই এখন আর । নবারুণ লিখেছিলেন, 'এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না'। আমরা চিৎকার করে বলতে পারিনি তবু, “এই আকাশ ঢাকা ফ্ল্যাটময় উপত্যকা, আমার দেশ না।” বদলে মেনে নিয়েছি, মেনে নিতে শিখে গেছি সব কিছু।… তবু তো শেষ হয় না সব কিছু এখানেই । একেকটা মন খারাপের শেষেও নতুন করে বাঁচতে ইচ্ছা হয় অবশিষ্ট ভালোর আদরটুকু গায়ে মেখে নিয়ে। ঠিক যেভাবে কিছুকিছু ভাললাগা ফিরে আসে পাঁচ বছরের শীতঘুম কাটিয়ে। নতুন ভালোবাসার আলো-ছায়া-রোদ্দুর নিয়েও আসে কেউ কেউ। ঘুমিয়ে থাকা স্বপ্নগুলো এক হয়ে যেতেই, মন অলস দুপুরের লোকাল ট্রেনের উইন্ডো সিটের মতো ভালো হয়ে যায় আচমকাই।
এবং সেখান থেকেই এক হওয়া শুরু । যদি লেখা-ছবি-কবিতাতে ধরে রাখা যায় হারিয়ে যাওয়া সব কিছুর, কিছুটা অন্তত? যদি আবার এক টেবিলে বসিয়ে দেওয়া যায় দুই বন্ধুকে, অনেক বছর পর? যদি পড়ে থাকা গীটারটা তুলে কেউ গান গেয়ে ওঠে? যদি পুরুলিয়ার ঝুমুর গানের সুর মাতিয়ে দেয় মফঃস্বলের বুক? যদি হাবরা-কোলকাতা-বজবজ-বাঁকুড়া আড্ডা মারতে বসে ধোঁয়ায় ধোঁয়া মিলিয়ে? যদি, অনেক বছর পর আপনার বুকের ভিতর সেই হারিয়ে যাওয়া চিনচিনে ভালোলাগার মতন একটা আনন্দ জেগে ওঠে আবার?
হ্যাঁ, এসবই নিয়েই বাটানগর-বজবজ লিটল ম্যাগাজিন কার্নিভাল। বাটানগরে।
আমাদের মতন, বাটানগরও আপনাদের জন্য অধীর অপেক্ষায় থাকে। নতুন করে প্রেমে পড়ার অপেক্ষায়। অগত্যা...
.png)